লক্ষ্মীছড়িতে শিক্ষা ও সমাজসেবায় উজ্জ্বল নাম মোবারক হোসেন
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান রাখা মোবারক হোসেনের জীবন, সংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত জানুন।
পাহাড়ের দুর্গম জনপদ খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবিক সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব— মোবারক হোসেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও তিনি এলাকায় গড়ে তুলেছেন একাধিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব ১৯৯৭ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু করা মোবারক হোসেন ১৯৯৮ সালে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দুর্নীতির কোনো কালিমা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কারণে তিনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
অদম্য মনোবল ও ত্যাগ
বিগত সরকারের আমলে অসংখ্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলা এবং ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মানিকছড়িতে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। শরীরের অভ্যন্তরীণ জখম নিয়ে দীর্ঘ এক মাস চার দিন চট্টগ্রামের মেরিন সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনও এলাকা ত্যাগ করেননি; বরং দুর্গম পাহাড়ে রাত কাটিয়েও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে বহু নেতাকর্মীকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোবারক হোসেন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা সমাজসেবক। এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন:
-
লক্ষ্মীছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: যা নারী শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখছে।
-
উপজেলা গণপাঠাগার: জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
-
লক্ষ্মীছড়ি সংগীত বিদ্যালয়: শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে রাখছেন।
-
লক্ষ্মীছড়ি প্রেস ক্লাব: সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় এটি তার এক বিশেষ অবদান।
এছাড়া তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন।
জনগণের প্রত্যাশা
এলাকাবাসীর মতে, মোবারক হোসেনের মতো একজন মার্জিত, শিক্ষিত ও কর্মী বান্ধব নেতা জনসেবায় আরও বড় সুযোগ পেলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, তাকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি আধুনিক ও সম্প্রীতির খাগড়াছড়ি গঠনে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিজ কর্মগুণে এবং ত্যাগের মহিমায় মোবারক হোসেন আজ লক্ষ্মীছড়ির সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছেন।
What's Your Reaction?








